খলিশা ফুলের মধু

খলিশা ফুলের মধু অত্যন্ত জনপ্রিয় মধু। এর ন্যাচারাল বৈশিষ্ট্য ও গুনাগুনের জন্যই এত পরিচিত ও মুখে মুখে এর নাম শুনা যায়। সুন্দরবনের অনেক গাছপালার ভিড়ে ছোট থেকে মাঝারি গড়নের একটি গাছ হলো খলিশা। এটি গুল্ম বা ছোট বৃক্ষজাতীয় প্রকৃত ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ। প্রায় ৫-৭ মিটার পর্যন্ত বাড়ে। সুন্দরবনে খলিশা সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় না। খলিশা ফুল ফুটলে সারা দিন মৌমাছি মধু সংগ্রহের জন্য ভিড় করে। বহুদূর থেকে সৌরভ পেয়ে মৌমাছি, প্রজাপতি ছুটে আসে। সুন্দরবনের প্রজাপতিরও পছন্দের ফুল এটি।

বিরল এই উদ্ভিদ সাধারণত সুন্দরবনে বিচ্ছিন্নভাবে জন্মে। সমষ্টিগতভাবে থাকে না। প্রচুর আলো পড়ে এমন পরিবেশে ভালো জন্মে। বনের অন্ধকার এলাকায় জন্মে না। লবণাক্ততার মাত্রা যেখানে বেশি সেখানে এরা ভালো থাকে। এটি ভারত, বাংলাদেশ, নিউগিনি, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ চীনসহ নানা দেশে জন্মে। ফল দেখতে কিছুটা মটরশুঁটির মতো। লম্বায় প্রায় ৫-৮ সেন্টিমিটার। প্রতিটি ফলে একটি বীজ থাকে। বীজ থেকে চারা গজায়। খলিশার পাতা বিভিন্ন প্রজাতির মথ, ক্যাটারপিলারের খাবার। আদিবাসী কোনো কোনো গোত্রের লোকেরা পাতা কাঁচা বা তরকারি হিসেবে খায়। সিঙ্গাপুরের আদিবাসী মেয়েরা খোঁপায় খলিশা ফুল গোঁজে।

খলিশা ফুলের মধু যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। ইউনিয়নের ৪০ হাজার বাসিন্দাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদীর উপর নির্ভরশীল। সুন্দরবনে গিয়ে মধু সংগ্রহ করেন এই মৌয়ালরা।

প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে সুন্দরবন থেকে প্রায় ৫ রকম মধু পাওয়া যায়। এই ফুল ফোটাফুটির মধ্যকার কয়েকটা দিনই কেবল মাত্র খলিশার দিন। মোহনীয় এই দিন গুলোতে শুধু খলিশায় ছেয়ে থাকে চারদিক, অন্যকোন গাছে অন্য কোন ফুল থাকেনা তখন। আর সেই ফুলের নির্জাস জমে যে মধু হয় সেটাই প্রথম গ্রেডের খলিশাফুলের মধু। এই মধু সংগ্রহ করা হয় দিনক্ষনের হিসাব মিলিয়ে, প্রকৃতির বৈশিষ্টকে মাথায় রেখে। দিনক্ষনের হিসাব কাজে লাগিয়ে দক্ষ মৌয়ালরা এক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এক পাত্রে রাখেন।
কিন্তু বানিজ্যের প্রয়োজন আর অতি চাহিদার কারনে এগুলোকে আলাদা করে বিক্রি বা সংরক্ষন কোনটাই সম্ভব হয়না মৌয়ালদের পক্ষে। স্থানীয় ভোক্তা আর নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছেই মধু দিতে বাধ্য থাকেন তারা।

সুন্দরবনের মধুর গুণ, রং, হালকা সুগন্ধ যুক্ত মান আর স্বাদ অন্য কোন মধুর সাথে তুলনাই যায় না! চাষ মধু আর জঙ্গলের খাঁটি মধুর গুন, মান আর স্বাদের পার্থক্য অনেক। গুনাগুন ও বৈশিষ্ট্য অন্যান্য মধুর মতই তবে সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু খুব সম্ভবত জমে যায় না।

অরিজিনাল খলিশা ফুলের মধু এখন পাওয়া যাচ্ছে ফিগলীতে।