বর্তমান সময়ে বলা যায় প্রতিটি মানুষের স্মার্ট ফোনেই ভালো মানের ক্যামেরা থাকে। কিন্তু তারপরেও অনেকেরই ফটোগ্রাফির শখ থাকে, সেজন্য তারা ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার কথা ভাবে। কিন্ত তাদের মধ্যে অনেকেই ডিজিটাল ক্যামেরা সম্পর্কে তেমন বেশি কিছু না জানেনা, এজন্য আজ Feeglee.com এর পাঠকদের জন্য নিয়ে এলাম ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে যে বিষয় গুলো মাথায় রাখবেন।

ক্যামেরা কেনার আগেঃ-
ডিজিটাল ক্যামেরা সাধারণত ২ ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ-
১. এসএলআর/ডিএসএলআর (SLR/dSLR) ও
২. পয়েন্ট এন্ড শ্যুট বা কম্প্যাক্ট (Compact).


এই ২ ধরনের ক্যামেরার আবার কয়েক ভাগ আছে। আপনি প্রথমে ঠিক করুন আপনার বাজেট কত? dSLR বা সেমি dSLR কিনতে আপনাকে বড় অংকের পয়সা খরচ হবে। আপনার যদি সিরিয়াস ধরণের ফটোগ্রাফির ইচ্ছে না থাকলে সেদিকে যাবার প্রয়োজন নেই আপনার। আপনি যদি লেন্সের যত্ন ভালভাবে না নেন তাহলে সেটিতে ফাংগাস পড়ে আপনার দামী জিনিষটা নষ্ট হতে পারে। যদি আপনি প্রাথমিক ফটোগ্রাফার হন তাহলে আপনার কমপ্যাক্ট ক্যামেরা কেনাই উচিৎ হবে। আর যদি বাজেট বেশি হয় সেক্ষেত্রে আপনি ডিএসএলআর কিনে নিতে পারেন।

রেজুল্যুশন (Resolution)ঃ-
বেশী মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার দিকে থাকে ক্রেতাদের টেন্ডেসী। ক্যামেরা প্রস্তুতকারকেরাও মেগা পিক্সেল দেখিয়ে ক্রেতাদের মনোযোগ অন্যদিকে ডাইভার্ট করে থাকে। আমাদের প্রথম মনোযোগ ক্যামেরার ইমেজ সেন্সরের সাইজের উপর দেয়া প্রয়োজন। একটি dSLR ক্যামেরার ইমেজ সেন্সর হয় ৩৬x২৪mm অর্থাৎ ৮৬৮mm2 সার্ফেস এরিয়া থাকে। আর কম্প্যাক্ট ক্যামেরাগুলোতে ৫x৪mm = ২০ mm2 সার্ফেস এরিয়া পাওয়া যায় মাত্র। সাধারণত এসব কারণেই মেগাপিক্সেল দেখিয়ে ক্যামেরা বিক্রির প্রবণতা বেশী কম্প্যাক্টে। জেনে রাখুন ১০-১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে আপনি ভালমতই A3 সাইজের ছবি প্রিন্ট দিতে পারবেন। কখনই মেগাপিক্সেল নিয়ে বেশী ভাববেন না। সেন্সর দুধরণের হয়ে থাকে CCD ও CMOS । CMOS গুলো ভালো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। পুরনো টেকনোলজি CCD, বেশী ব্যাটারী নেয়, কিছু ভাল ইমেজ দেয় অন্যদিকে CMOS নতুন টেকনোলজি, কম বিদ্যুৎ নেয়। বর্তমানে দুটো সেন্সরের গুনগত মান প্রায় সমান হলেও অনেকে CCD কে উপরে রেখে থাকেন।

জুম (Zoom)
যারা একটু অভিজ্ঞ তাদের বেশী জুম দেখে ক্যামেরা কেনার প্রবণতা থাকে। জুম মূলত দু’ধরণের হয়ে থাকে।
১. ডিজিটাল জুম
২. অপটিক্যাল জুম


ক্যামেরা কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিবেন যে ক্যামেরার অপটিক্যাল জুম কত, মনে রাখবেন ডিজিটার জুম আপনার কোন কাজেই আসবে না। জুম এর জন্য দরকারী হল ইমেজ স্টাব্লাইজার। আবার ইমেজ স্টাব্লাইজার দু ধরণের হয়ে থাকে। যেমনঃ-
১. ডিজিটাল
২. অপটিক্যাল


ক্যামেরা কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিন আপনার ক্যামেরাটি অপটিক্যাল ইমেজ স্টাব্লাইজিং সাপোর্ট করে কিনা। ডিজিটাল সাপোর্টেড হলে সে ক্যামেরা আপনার চয়েস না করাই শ্রেয়।

অ্যাপারচার (Aperture)
অ্যাপারচার নামটাই অনেকে হয়ত শোনেননি। ক্যামেরার ছিদ্র হল অ্যাপারচার, যা দিয়ে আলো ক্যামেরায় ঢুকে লেন্সে পড়ে। অনেকে আবার একে ফোকাল লেংথ বলে থাকে। ক্যামরায় প্রকাশ করা হয় f/1.2-f/22 এভাবে। এর মাধ্যমে বুঝা যায় কত কাছের আর কত দূরের ছবি আপনি ভালভাবে তুলতে পারবেন। dSLR ক্যামেরায় এটা সাধারণত f/1.2-f/22 হয়, এর মানে দুটো মানের বিশাল পার্থক্য থাকে । কম্প্যাক্ট ক্যামেরাগুলো সাধারণত f/3.3-f/5.5 হয়, অর্থাৎ দুটোর মানের ব্যাবধান কম হয়। দুটোর ব্যাবধান যত বেশী হবে সুবিধা তত বেশী পাবেন আপনি। ক্যামেরা কেনার আগে অবশ্যই এটি দেখে কিনুন।

শাটার স্পিড (Shutter speed)
ক্যামেরার শাটার কত দ্রুত বন্ধ হবে সেটিই হলো শাটার স্পিড, অর্থাৎ ছিদ্র কতক্ষণ খোলা বা বন্ধ থাকবে সেটা। শাটার যত দ্রুত বন্ধ হবে ক্যামেরার ছিদ্রও তত কম সময় খোলা থাকবে; ঠিক তত কম আলোই ক্যামেরায় প্রবেশ করবে; ইমেজ হবে শার্প ও পরিষ্কার। আবার যদি শাটার আস্তে বন্ধ হয় বেশী সময় খোলা থাকবে; ছবি হবে ঘোলা। তবে মনে রাখুন চলমান কিছুর ছবি তুলতেই কেবল শাটার স্পিড প্রয়োজন হবে। শাটার স্পিড 1/4,000 এভাবে প্রকাশ করা হয়। ক্যামেরা কেনার আগে দেখে ক্যালকুলেটরে ভাগ করে দেখে নেবেন কোন ক্যামেরার এই মান কম।

ফেস ‍রিকোগনিশন (facial recognition)
বর্তমান সময়ের প্রায় সব ক্যামেরাতেই ফেস রিকোগনিশন থাকে। অটোমেটিক ফোকাস হয়ে যায় এটিই এটার ভালদিক, ফলে ছবি ঘোলা হয়না সাধারণত। কেনার আগে দেখে নেবেন এটি আছে কি না। থাকলে ভাল।

ব্যাটারী লাইফ (Battery life)
২০০-৩০০ ছবি তুলতে পারে অন্তত এমন ব্যাটারী লাইফের ক্যামেরা কেনা প্রয়োজন। কিছু কিছু ক্যামেরাতে ব্যাটারী আলাদা করে খুলে চার্জ দেয়া যায়, এতে সুবিধা হল আপনি বাড়তি একটি ব্যাটারী কিনে রাখতে পারবেন। যদি একটির চার্জ শেষ হয়ে যায় তবে অন্যটি চালাতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *