দেখা যায় আমরা কোনোকিছু কিনতে গিয়ে তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় অনেক ছোটখাট ভুল সবসময়ই করে থাকি। পরে কিন্ত এই ভুলগুলো অনেক বড় আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটি যদি হয় স্বর্ণর মতো বড় মাপের জিনিস সেক্ষেত্রে তো সেই দুঃখের মাত্রাটা অনেক অনেক গভীর হয়। আপনি যদি স্বর্ণ কেনার আগে একটু সাবধানতা অবলম্বন করে চলেন তাহলে আপনাকে পস্তাতে হবে না। তাই আজ Feeglee.com এর পাঠকদের জন্য নিয়ে এলাম স্বর্ণ কেনার আগে এই কাজ গুলো ভুলেও করবেন না।

সোনার পয়সা বা স্বর্ণমুদ্রা কেনাঃ-
সোনার পয়সা বা স্বর্ণমুদ্রা কেনা যদি সোজা বাংলায় এর অর্থ বুজতে চান তাহলে আপনি ভবিষ্যতে নগদ লাভের আশায় টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন এটাই বুজে নেন। যদি কোনো দেশের টাকশালের তৈরি সে দেশের স্বর্ণমুদ্রা কিনতে যাব তবে একটু খোঁজ-খবর রাখুন আর স্বর্ণকারের তৈরি নয়া কোনো নকশায় তৈরি হলেও সেটাও দেখে নিবেন। আর ভালোকরে হিসাবটাও করে নিবেন যে সামনে এই স্বর্ণর দাম বাড়বে নাকি কমবে? এর কারণ হলো যিনি তা বিক্রি করতে যাচ্ছে সামনে সেত্তির দাম পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তিনি তা করছেন কিনা। সুতরাং আপনার উচিত হবে বিক্রেতা বা দালাল আপনাকে যতই বুঝাক না কেনো – আপনি বাজারদর সম্ভাব্যতর পর্যায়ের নিম্নতম হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


সঞ্চয়ের জন্য লাভজনক নয়ঃ-
মনে রাখবেন স্বর্ণ এমন কোনো সম্পদ না যেটা আপনাকে লাগাতার বা মাস মাস লাভের টাকা দিয়ে যাবে। এটা মূলত নিয়মিত আয়দানকারী কোনো সম্পদ না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে আপনার মোট বিনিয়োগযোগ্য অর্থের মাত্র ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত আপনি স্বর্ণ কেনায় বিনিয়োগ করতে পারেন- যআপনি বিশেষ সময়ের জরুরি প্রয়োজনে সেগুলো নগদে বেচে বিপদ সামলাতে পারেন।


ভুল জায়গা থেকে কেনাঃ-
এই জটিলতায় বেশি পড়েন নয়া বিনিয়োগকারীরা। ভালো করে মাথায় রাখুন স্বর্ণ নিয়মিত কেনা বা কোনো ভোগ্যপণ্য বা কম্পিউটার একসেসরিজ নয়। এজন্য কেনার আগে কোনটা আসল স্বর্ণ আর কোনটা নকল স্বর্ণ এটা আপনার জন্য চিনে নেওয়া অনেক বুদ্ধিমানের একটা কাজ হবে। এজন্য স্বর্ণর নামে পিতল, তামা বা বেশি দামে কম ক্যারেটের স্বর্ণ কিনে ধোঁকা খেতে পারেন, এই কারনে ভালো করে যাচাই বাচাই করেই স্বর্ণ কিনবেন। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে যদি আপনার লাভ কম মনে হলেও আপনি প্রতিষ্ঠিত নামি দোকান থেকেই কিনবেন। আপনি অবশ্যই স্বর্ণালঙ্কার কেনার সময় হলমার্কচিহ্নিত দেখে কিনবেন- এর কারণ হলো ছোটখাট প্রতিষ্ঠান এই জিনিস টাই দিতে পারে না, এজন্য বিশ্বস্ততা নিশ্চিত হওয়া যায় না কোনো ভাবেই। আর যদি স্বর্ণমুদ্রাও কিনতে যান আপনি তবে বিশ্বস্ত দোকান থেকেই কিনবেন।


অপ্রয়োজনে কেনাঃ-
যদি আপনার নিজের প্রয়োজন মনে হয় তবেই আপনি স্বর্ণ কিনুন। মানুষ বেশিরভাগ সময় আত্মীয়-বন্ধুদের খুশি করতেই অহেতুক স্বর্ণ কিনে থাকে এটা এক কথায় বোকামি ছাড়া আর কিছু না। এটা আপনার মুল্যবান সঞ্চয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে যদি না লাভ-লসের হিসাবটা ঠিকমতো না বুঝেন।


বর্তমান দাম না জানাঃ-
বেশির ভাগ সময়ই স্বর্ণ ক্রেতারা এই ভুলটিই বেশি করে থাকেন। সেই ভুলটি হলো হালের বাজারদর না জানা। যদি এই অজ্ঞতা আপনার মধ্যে থাকে তবে কেনা ও বেচা দুই ক্ষেত্রেই আপনাকে ক্ষতির মুখে রাখবে।আবার এমন অনেকেই আছে যারা ছয় মাস বা একবছর আগের দরকেই চলমান দর বলে ধরে নেন। সুতরাং সেক্ষেত্রে আপনাকে শুধু পত্রিকা ঘেঁটে বা ইন্টারনেটে ঢুঁ মেরে কিংবা পরিচিতজনদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে সঠিক দরটা জেনে নিতে হবে।


রুপায় অনাগ্রহঃ-
অভিজ্ঞজনরা বলে থাকেন যখন স্বর্ণর দর ঊর্ধ্বমুখী তখনই রুপার মুদ্রা আপনাকে লাভবান করে দিতে পারে।কিছু পুরনো আমলের রৌপ্যমুদ্রা বা রুপার বার খোঁজ-খবর করে কিনে রাখুন। মনে রাখবেন স্বর্ণর দাম যদি বারে তাহলে তার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদির দামও বাড়তে থাকবে- এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সে সূত্রে যখনি সন্তোষজনক লাভ দেখবেন- স্রেফ বেচে দিন।