মাইক্রোফোন কেনার আগে এই বিষয়গুলো লক্ষ রাখুন

মাইক্রোফোন একটি গুরুত্বপুর্ন গেজেট, বিশেষ করে তাদের জন্য যারা অনুষ্ঠানে গান গায় অথবা যারা ভিডিওতে নিজের সাউন্ড এডজাস্ট করতে চায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোফোন পাওয়া যায়, আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী আপনি কিনে নিতে পারবেন। অনেকেরই মাইক্রোফোন সম্পর্কে কোনো ধারনা না থাকার কারনে ভুল মাইক্রোফোন কিনে ঠকে থাকে, তাই আজ Feeglee.com এর পাঠকদের জন্য নিয়ে এলাম মাইক্রোফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকা জরুরী।

মাইক্রোফোনের ধরনঃ
মাইক্রোফোন দুই ধরনের হয়ে থাকে:
১) ডায়নামিক ও কনডেনসার।
২) কারডিওআইডি।
এদুটি ছাড়াও ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে মাইক্রোফোনের আরো কিছু গুনাগুন রয়েছে। আপনি যখনই একটি মাইক্রোফোন কেনার কথা ভাববেন, তখন আপনি যে গুরুত্বপুর্ন কাজটি করবেন সেটি হলো আপনার কাজের ধরণের উপর ভিত্ততি করে ঠিক করুন আপনার কেমন মাইক্রোফোন প্রয়োজন। এরপর, আপনি ভাবতে পারেন এর সাইজ, ব্রান্ড এবং দাম সম্পর্কে।

ডিরেকশোনালিটিঃ
আপনার যেমন মাইক্রোফোন দরকার সেটির উপর ভিত্তি করে আপনি ডিরেকশোনালিটি প্যাটার্ন বেছে নিন। আপনি অবশ্যই মনে রাখুন খুব কাছের সাউন্ড সোর্সের ক্ষেত্রে কম ডিরেকশোনাল মাইক ভাল কাজ করে। আর যদি আপনার দরকার হয় দুরের সাইন্ড সেক্ষেত্রে ভাল কাজ করে হাইপারকারডিওআইডি।

ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্সঃ
মাইক্রোফোন কেনার আগে লক্ষ্য রাখতে হবে যে মাইকটির ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্স কতটা। মনে রাখা ভালো রুল অব থাম্ব অনুযায়ি, ফ্লাট রেসপন্স পেটার্ন সবচেয়ে ভাল হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে টেইলর্ড রেসপন্স ভাল কাজ করে।

ইমপিডেন্সঃ
ইমপিডেন্স সাধারণত ২ ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ
১) হাই ইমপিডেন্স
২) লো ইমপিডেন্স
জেনে রাখা ভালো হাই ইমপিডেন্সের চেয়ে লো ইমপিডেন্স ভাল।

নয়েজ নিয়ন্ত্রণঃ
মাইক্রোফোনের নয়েজ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম একটি গুরুত্বপুর্ন কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ওয়েভ থেকে সিগনাল রিসিভ করে ডায়াফাগ্রাম সাউন্ড এবং সেই সাউন্ডটিকে ইলেকট্রিকাল সিগনালে কনভার্ট করে নেয়। কিন্ত আপনার মাইক্রোফোনে যদি কোন ধরণের প্রোটেকশন সিস্টেম না থাকে সেক্ষেত্রে যেটি হয় সেটি হলো ডায়াফাগ্রাম প্রয়োজনীয় সাউন্ড ওয়েভ এবং নয়েজের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারে না।

যেভাবে কিনবেন মাইক্রোফোনঃ
মনে রাখবেন প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা মাইক্রোফোন পাওয়া যায়। আপনার যে ধরণের মাইকের প্রয়োজন হবে আপনি সেটার উপর ভিত্তি করেই মাইক্রোফোন কেনা ভাল, অনেক সময় কাজের জন্য অনেক গুলো মাইক্রোফোন কেনা লাগে, তবে আপনি যদি বাজেট সীমাবদ্ধতার কারনে এতগুলো মাইক কিনতে না পারেন তাহলে আপনার এমন একটি মাইক কেনা উচিৎ যেটা দিয়ে আপনি বেশিরভাগ কাজ করতে পারবেন। যদি আপনি ভোকালিস্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সাধারণ কারডিওআইডি মাইক কেনা ভালো হবে। আর যদি ভিডিও মেকিং এর কাজ করতে চান তবে আপনার জন্য কনডেনসার মাইক ভালো হবে। কনডেনসার মাইক দিয়ে আপনি দুভাবে কাজ করতে পারবেন, এটি কারডিওআইডি ও হাইপার-কারডিওআইডি মোডে কাজ করতে পারে।

পার্থক্যঃ
যেহেতু সাউন্ড একটি খু্ব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি যেমন শব্দ চান তেমন শব্দের জন্যে আপনাকে একটি ভাল মাইক কিনতে হবে শুধু সেটিই তেমন শব্দ আপনাকে দিতে পারবে। কিন্ত এক্ষেত্রে আপনাকে একটি কন্ট্রোলড টেস্ট করে নেয়া উচিৎ। আর এটি করতে হলে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন মাইক ব্যবহার করতে হবে এবং ঠিক একটি শব্দই রেকর্ড করতে পারবেন। কাজটি করে আপনি যখন ফলাফল শুনবেন তখন আপনি নিজেই বুঝে যাবেন যে আপনার জন্য কোনটি ভাল হবে। কিন্ত আপনাকে এটি নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে আপনি একই মানের মাইকের মধ্যে পার্থক্য করে দেখছেন। যেমন- আপনি যদি একটি হাতে ধরা কারডিওআইডির সঙ্গে একই জায়গায় শটগানের পার্থক্য করেন তাহলে আপনি কিছুই ধরতে পারবেন না। আপনি যদি মাইকগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুজে বের করতে চান, তাহলে একই পজিশনে রেখে মাইকগুলো টেস্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *