ফ্রিজ কেনার আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফ্রিজ অনেক গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। আপনার বাসায় যদি ফ্রিজ না থাকে তাহলে আপনার যন্ত্রনা আর কেউ বুজবেনা। এর কারন হলো ফ্রিজ আমাদের শাক সবজী, মাছ, মাংস ও খাবার দাবার ফ্রেশ ও সতেজ রাখে। যাদের ফফ্রিজ নেই তারা অনেকেই ফ্রিজ কেনার কথা ভাবছে, কিন্তু মনে রাখবেন ফ্রিজ কেনার আগে এটি সম্পর্কে ভালো করে জেনে তবেই কিনবেন ফ্রিজ। এজন্য আজ Feeglee.com নিয়ে এলো ফ্রিজ কেনার আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।

স্টার দেখে ফ্রিজ কিনুনঃ
ফ্রিজ কেনার আগে অবশ্যই এর স্টার দেখেন ফোর স্টার বা ফাইভ স্টারের নীচের কোনও ফ্রিজ কখনই কিনবেন না। ফ্রিজের এই স্টারগুলি দিয়ে বোঝায় এনার্জি এফিসিয়েন্সি। ফ্রিজের মডেলটি যত বেশি স্টারের হবে সেটি তত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। এজন্য কম টাকার ফ্রিজ না কিনা অপেক্ষা করে একটু বেশি টাকা জমান। দরকার হলে দু’দিন পরে ফ্রিজ কিনুন কিন্তু কখনই ওয়ান স্টার বা টু স্টার ফ্রিজ কিনবেন না। যদি কিনেন তবে প্রতি মাসেই আপনাকে অনেক টাকা বিদ্যুতের বিল দিতে হবে।

ব্র্যান্ডঃ
মনে রাখবেন ব্র্যান্ড ভ্যালু বলে একটা কথা আছে, সব সময় চেষ্টা করবেন ব্যান্ডের পন্য কেনার জন্য। কোনো অনামী ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কখনও কিনবেন না, যদি কিনেন তবে আপনার দুঃখের শেষ থাকবেনা। ২দিন পর পর সার্ভিসিং করাতে হবে।এলজি, হোয়ার্লপুল, স্যামসাং হল বাজারসেরা। রেফ্রিজেটরের বাজারে টপে রয়েছে এই ব্র্যান্ডগুলি। এছাড়া হিতাচিও ব্র্যান্ডের ফ্রিজও ঠিকঠাক রয়েছে। কিন্তু এর সবচেয়ে ভাল মডেলগুলির সবক’টিই ৩০০ লিটার বা তার বেশি।

কম্প্রেসরঃ
কম্প্রেসর হলো একটি ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি যত উন্নতমানের কম্প্রেসর বাচাই করবেন ততই তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে ফ্রিজ। চেষ্টা করবেন অত্যাধুনিক ইনভার্টার যুক্ত কম্প্রেসর এর ফ্রিজ কেনার জন্য। এতে করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং ভোল্টেজের ওঠানামাতেও ঠিকঠাক কুলিং হয়। প্রতিটি ব্র্যান্ডের ফ্রিজই ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে যেমনঃ- এলজি-র ফ্রিজে স্মার্ট ইনভার্টার কম্প্রেসর দেয়া থাকে এতে করে ফ্রিজ তার পরিমান অনুযায়ী নিজেই কুলিং সেট করে নেয়। এতে বিদ্যুৎ অতিরিক্ত খরচ হয় না। আবার স্যামসাংয়ের ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসর নিজেই বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ এবং ফ্রিজ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কুলিং অ্যাডজাস্ট করে।

ডাবল ডোর ফ্রিজঃ
সবসময় ডাবল ডোর ফ্রিজ কিনবেন। এর কারন হলো ডাবল ডোর ফ্রিজে স্টোরেজ স্পেস অনেক বেশি থাকে। যদি আপনার পরিবার ব্যস্ত পরিবার হয়ে থাকে যেখানে সবাইকেই রোজ বের হতে হয় তাহলে আপনার জন্য এই ফ্রিজই ভাল হবে কারণ মাছ-মাংস ইত্যাদি অনেকটা একসঙ্গে স্টোর করা যায়।

শেলফঃ
সকল ভাল ব্র্যান্ডই ফ্রিজের ভিতরের স্টোরেজ স্পেসটি একটু উনিশ-বিশ ডিজাইন করে থাকে। তাই আপনি সেটির থেকে যেটির দিকে নজর দিবেন সেটি হলো শেলফ যথেষ্ট শক্তপোক্ত রয়েছে কি না। অনেকটা ভারী ওজন বইতে পারে গ্রিল শেলফ, আর ফ্ল্যাট ফাইবার শেলফ দেখতে ভাল এবং পরিষ্কার করা অনেকটা সহজ। আপনার জন্য যেটা সুবিধে হয় আপনি সেটাই নেবেন।

সাইড-বাই-সাইড ফ্রিজারঃ
আপনি যদি অনেক টাকা খরচ করে চোখ ধাঁধানো ফ্রিজ কিনতে চান, তবে আপনি সাইড-বাই-সাইড ফ্রিজার কিনতে পারেন। এই ফ্রিজে রয়েছে ওয়াটার ডিসপেন্সার অর্থাৎ ঠান্ডা জল খাওয়ার জন্য আর বোতল হাতড়াতে হবে না। ফ্রিজের গায়ের ডিসপেন্সারটি অন করলেই ঠান্ডা জল পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *