আমাদের দেশে দিন দিন তাপমাত্রা অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে। গরমে যখন সবাই অতিষ্ঠ তখন এক পশলা প্রশান্তি দিতে পারে যদি আপনার বাসায় একটা এসি থাকে। যাদের বাসায় এসি নেই যারা ভাবছেন নতুন এসি কিনবেন কিন্তু এসি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই ঠিক তাদের জন্যই আজ Feeglee.com নিয়ে এলো এসি কেনো কিনবেন, কেনার আগে যা জানা উচিৎ।

ক্যাপাসিটি বা টনঃ-
এসি বা এয়ার কন্ডিশনার কেনার আগে যে বিষয়টি সবার আগে আসে সেটি হলো ক্যাপাসিটি, আপনার বাসা বা যেই রুমে এসিটি রাখবেন সেই রুমের মাপ অনুযায়ী নির্ধারন করা হয় কত ক্যাপাসিটির এসিটি আপনার দরকার। বাংলাদেশে এই ক্যাপাসিটিকে টন হিসেবে ধরা হয়। এক ঘণ্টায় একটি এসি যতটুকু তাপ দূর করতে পারে, তা হলো ১ টন। তাপ মাপা হয় ব্রিটিশ থারমাল ইউনিটে (বিটিইউ) এবং একটি এক টন এসি ঘণ্টায় ১২,০০০ বিটিইউ তাপ অপসারণ করতে পারে। প্রতি বর্গ ফুটের জন্য একটি এসিতে ২০ বিটিইউ থাকা প্রয়োজন। যদিও এই সংখ্যাটি ঘরের জানালার মাপ এবং ছাদের উচ্চতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তন হয়।

ব্র্যান্ডঃ-
এসি বা এয়ার কন্ডিশনার কেনার আগে ব্র্যান্ডের গুরুত্বকে আপনি যতটুকু মনে করেন আদতে ব্র্যান্ডের গুরুত্ব তার থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ন। যারা এসি কেনার কথা চিন্তা করছেন সেহেতু আপনি এটাও চিন্তা করছেন যে আপনার এসিটা যাতে বেশিদিন চলে, আর এই বেশিদিন চলার পেছনে রয়েছে ব্র্যান্ডের গুরুত্ব। যেমন ধরুন আপনার এসিটি যদি হয় LG, Panasonic, General, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার এসিটি বেশিদিন ভালো সার্ভিস দিবে। সবসময় মনে রাখবেন নরমাল এসি কেনার থেকে একটু বেশি খরচ করে ব্র্যান্ডের এসি কেনা অনেক গুন ভালো। নতুবা কিছুদিন পর পর আপনার এসিটি সার্ভিস সেন্টারে পাঠাতে হবে।

স্প্লিট না উইন্ডে?
তুলনামূলকভাবে উইন্ডো থেকে অনেকটাই এগিয়ে স্প্লিট এসি। দেখতে অনেক বেশি স্মার্ট। উইন্ডো এসির ক্ষেত্রে পুরো সেটআপ-টাই এক সঙ্গে থাকে। স্প্লিট এসির ক্ষেত্রে অনেকটা অংশ মূল এসির থেকে দূরে থাকে। ফলে উইন্ডো এসিতে শব্দ হয় কিন্তু স্প্লিট এসিতে কোনও শব্দ হয় না।
ঘরে উইন্ডো এসি বসালে একটা জানালা দখল হয়ে যায়। আলো-বাতাসও কমে যায়। কিন্তু স্প্লিটটের ক্ষেত্রে তা হয় না। তবে সুবিধা যেখানে বেশি দাম তো একটু বেশি হবেই। দেখা গিয়েছে উইন্ডো থেকে স্প্লিটের বাজারদর নূন্যতম ৬ হাজার টাকার মতো বেশি হয়ে থাকে।

ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টারঃ-
অনেকেই এই ইনভার্তার আর নন-ইনভার্টার এসির পার্থ্যক্য বুঝেনা, অনেকে মনে করে ইনভার্টার মানে কারেন্ট চলে গেলেও এসি চলবে। আসলে বিষয়টা মোটেও তেমন না। আসলে ইনভার্টার আর নন-ইনভার্টার এসির মধ্যে মুল পার্থক্যটাই হলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়। যদি আপনার এসিটি ইনভার্টার হয় তবে সেটি স্বাধারন এসি থেকে কয়েক গুন বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। এটি আপনার কম্রেসারকে বারবার বন্ধ হওয়া থেকে বিরত রাখে ঈত্তে করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *